ছেলেটির দুটি কিডনি নষ্ট! চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন আত্মীয়-পরিজনের
নুরসেলিম লস্কর, বাসন্তী : চিকিৎসকের ব্যাবস্থা পত্রে ছেলেটির বয়স মাত্র ২৮ বছর। 'টু হুম ইট মে কনসার্ন' লিখে চিকিৎসক যে সনদ দিয়েছেন, তার বাংলা সহজ অর্থ হচ্ছে ছেলেটির দুটি কিডনি নষ্ট। এখন থেকে তাঁকে সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করাতে হবে এবং ছেলেটির কিডনি প্রতিস্থাপন দরকার।
ছেলেটির নাম জ্যোতির্ময় মন্ডল। প্রত্যন্ত সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের উত্তর মোকামবেড়িয়া গ্রাম-পঞ্চায়েত এলাকার উত্তর সোনাখালী গ্রামের বাসিন্দা। বাবা চৈতন্য মন্ডল পেশায় একজন দিনমজুর মা কল্পনা দেবী একজন গৃহ বধূ। নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়া পরিবারে ছোট থেকে দরিদ্রতা কে সঙ্গী করে বেড়ে ওঠা জ্যোতির্ময় বাসন্তীর নারায়ণতলা রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দির স্কুল থেকে ২০১৫ সালে উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ করার পর পরিবারের হাল ধরতে পড়াশোনা ছেড়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে শুরু করে মাছ বিক্রি। তার পর জ্যোতির্ময়ের মাছ ব্যবসার ফলে কিছু টা হলেও হাল ফেরে পরিবারের! বিয়ে করে জ্যোতির্ময়। তার একটা ফুট-ফুটে দেড় বছরের সন্তানও আছে। স্ত্রী, সন্তান ও বাবা মা কে নিয়ে বেশ ভালোই কাটছিলো জ্যোতির্ময়ের। কিন্তূ আজ থেকে প্রায় আড়াই মাস আগে হঠাৎ যেন আকাশ ভেঙে বজ্রপাত! শরীর টা খারাপ হতে শুরু করে জ্যোতির্ময়ের ডাক্তাররা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর জানিয়ে দেয় এই সংবাদ।
এর পর জ্যোতির্ময় প্রথমে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে ১৩ দিন পরে এসএসকেএম - এ ২০ দিন ভর্তি থাকার পর এখন বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। ডাক্তার বাবুরা জানিয়েছেন তার এখন এই জীবন রক্ষা করতে গেলে সপ্তাহে
তিন বার করে ডায়ালাইসিস করাতেই হবে ! আর এই চিকিৎসা করাতে এখন প্রচুর টাকার প্রয়োজন হচ্ছে! রোজ ডায়ালাইসিস করাতে গেলে যদি রক্ত কিনতে হয় তাহলে দু - থেকে তিন হাজার আর কখনো কখনো রক্ত ফ্রীতে বা কার্ডের বিনিময়ে যদিও পায় তাতেও প্রায় প্রতি বারে খরচ হচ্ছে হাজার থেকে দেড়- হাজার টাকা কিন্তূ জ্যোতির্মমের বাবা দিন মজুরের কাজ করে যেখানে সংসার চালাতে হিমশিম খান সেখানে প্রতি মাসে কোথায় পাবে চল্লিশ -পঞ্চাশ হাজার টাকা? তবুও এই আড়াই -মাস ধরে জ্যোতির্ময়ের পরিবার ও তার শশুর বাড়ির প্রচেষ্টায় তার চিকিৎসা চলছে ! কিন্তূ তারা এই চিকিৎসা ব্যায় চালাতে দিন দিন অক্ষম হয়ে পড়ছেন । আর সেই খবর জানতে পেরে জোতির্ময়ের বাড়িতে ছুটে গিয়েছিল তার স্কুলের সহ -পাঠি রেশমা,মনীষা, দিব্যেন্দু, শরিফুলরা। সব শুনে তারা এতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে জ্যোতির্ময়ের জন্য শুরু করেছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন। আর তাদের এই মানবিক কাজে 'সুন্দরবন টিভি' কে পাশে চেয়েও একটি আবেদন করেন তারা। কারণ জ্যোতির্ময়ের বন্ধু, বান্ধবী সুরজিৎ, সুমন, ফজলু, বিদিশারা চাই জ্যোতির্ময়ের এই লড়াইয়ে তাদের সাথে সঙ্গী হোক প্রত্যন্ত সুন্দরবনের মানুষের জীবন কথা তুলে ধরবার এক মাত্র সংবাদ সংস্থা সুন্দরবন টিভি কে।
আর সেই মতো জ্যোতির্ময়ের বন্ধুরা তার ছবি সহ তার ব্যাংক একাউন্টের বিবরণ সহ জ্যোতির্ময়ের চিকিৎসার সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজ পত্র ও চিকিৎসকের সনদ যুক্ত করে একটি আবেদন পত্র পাঠিয়ে দিয়েছিল আমাদের অফিসে। তাই জ্যোতির্ময়ের এই জীবন রক্ষার স্বার্থে আসুন না শুধু আমরা নই সকলে মিলে আজ থেকে জ্যোতির্ময়ের এই লড়াইয়ে তার সঙ্গী হই!